অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পদত্যাগ পুরো বিএসইসির , চাঙ্গা শেয়ারবাজার

পদত্যাগে বাধ্য হলেও বিবৃতিতে ২১ মাসের দায়িত্বে সফলতার দাবি বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদের

5

অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন দুসপ্তাহে ঠিক করবেন পুজিঁবাজার,কিন্তু সেই বক্তব্য দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পদত্যাগের নাটক সাজিয়ে সরে গেলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ । সচিবালয়ে সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চেয়ারম্যানসহ  সকল কমিশনের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার খবর পৌছতে পৌছতে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব আরো তেজি হয়ে ওঠে । গতকালই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ছাড়িয়েছিল ১২শ কোটির অংক ,আজ দুপুরে তাও ছাড়িয়েছে ১৩ কোটি টাকার ঘর। সূচকও আজ উঠেছিল ৫ হাজার ৪৭৯ পয়েন্টের ওপরে।

- Advertisement -

- Advertisement -

পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টানা আন্দোলন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় পরিবর্তনের সরকারি পূর্বাভাসের পর অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাঁর সঙ্গে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সংস্থাটির চার কমিশনারও। এরা হলেন—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পদত্যাগপত্রে তাঁরা প্রত্যেকেই ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন। তবে ছাপার অক্ষরে যাই থাকুক এই পদত্যাগ যে সরকারের চাপে বাধ্য হয়ে চেয়ার ছাড়া তা বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয় । এখন দেখার বিষয় সরকার অরাজনৈতিক আর পেশাদার কাদেরকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় । তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিশ্চিত করে যখন এসইসি ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন তখন বিশ্বাস করতে হবে যে বিএসইসিতে নিয়োগ প্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত হয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে অর্থ মন্ত্রনালয়ে ।

বিএসইসিতে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বাজারকে চাঙ্গা করতে আজই নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতে পারে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে একটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া নতুন প্যানেলে কমিশনার হিসেবে একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ (সিএ), একজন প্রথিতযশা আইনজীবী এবং ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধি থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পদত্যাগের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি তাঁর ২১ মাসের কার্যকালের নানা পদক্ষেপ ও আইনি সংস্কারের চিত্র তুলে ধরেন।

” ২১ মাস আগে দেশের একটি অত্যন্ত অস্থির সময়ে আমি বিএসইসির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুঁজিবাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করি “ এমন মন্তব্য পদত্যাগকারি রাশেদ মাকসুদের।  তিনি দাবি করেন, “ এই অল্প সময়ের মধ্যে বিএসইসি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিরীক্ষা ও করপোরেট পুনর্গঠন-সংক্রান্ত আরও তিনটি খসড়া বিধিমালা জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’—এই দুটি আইনের খসড়াও তাঁর মেয়াদে প্রস্তুত করা হয়েছে “।

বাজারে কঠোরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দাবি করে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, সব ধরনের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের সুযোগ দূর করে বাজার, মধ্যস্থতাকারী ও ইস্যুকারীদের নিয়মের মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তাঁর অভিজ্ঞতা ও নানা বিতর্কিত জরিমানার কারণে বাজার ক্রমাগত খাদের কিনারে চলে যায় বলে অভিযোগ ছিল। গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করে আসছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

You might also like