‘ঈদের দস্তরখান’ নামে ভূরিভোজের আয়োজন ছাত্রশিবিরের , আপত্তি ছাত্রদলের

রংপুর মেডিকেল কলেজের পিন্নু হোস্টেলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভূরিভোজ নিয়ে মুখোমুখি দুই ছাত্র সংগঠন

13

ইসলামী ছাত্র শিবির রংপুর মেডিকেল কলেজের পিন্নু হোস্টেলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভূরিভোজের আয়োজন করতে চাইলেও সেই আয়োজনে বাদ সেধেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল । ভূরিভোজ বন্ধ চেয়ে কলেজ প্রশাসন ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপির ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। ঈদেরদিন রাতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ঈদের দস্তরখান’ নামে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।

- Advertisement -

- Advertisement -

বুধবার (২৭ মে) সকালে ছাত্রদলের চিঠিতে দাবি করা হয়, ঈদের ছুটির সময়ে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কম থাকায় বড় ধরনের আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ‘কোরবানির মাংসভিত্তিক দাওয়াত’ ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে সহাবস্থান করে আসছেন। কিন্তু আয়োজনে অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও কুরবানির গরুর মাংসভিত্তিক দাওয়াতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেকের ধর্মীয় অনুভূতিতে অস্বস্তি বা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মামুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঈদের সময় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে গেছেন। কেবল কিছু ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থান করছেন। তাহলে কাদের নিয়ে ছাত্রশিবির এ আয়োজন করছে সেই প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া তাদের দাওয়াত কার্ডে গরুর ছবি ব্যবহার করে অমুসলিম শিক্ষার্থীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে আপত্তির কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, প্রতি বছরই ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোরবানির আয়োজন করা হয়। এবারও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পঞ্চম বর্ষের পরীক্ষার্থীসহ যেসব শিক্ষার্থী ঈদে বাড়িতে যেতে পারেননি, তাদের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা জানান, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এবং সব খাবার পৃথকভাবে প্যাকেটজাত করে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক শাহরিয়ার বলেন, ছাত্রশিবির সবসময়ই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে একে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের অপপ্রচার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আনোয়ার হোসেন গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এই আয়োজনের জন্য আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে শিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, তারা বাইরে কোরবানি করে দুস্থ মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করবেন। শোনার পর আমি তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছি।

 

You might also like