‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’এর মহিষনামা , নতুন ঠিকানা চিড়িয়াখানা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কোরবানি থেকে রক্ষা , বিশ্ব গনমাধ্যমে আলোচনা

16

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তো সবাই চেনেন! কিন্তু রাতারাতি ভাইরাল হওয়া ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে ভুলে যাবেন না ? ইচ্ছে হলেই আমেরিকায় নয় দেখতে পাবেন চিড়িয়াখানায় গেলেই।

- Advertisement -

- Advertisement -

না তাকে কোরবানি থেকে রক্ষা করেছেন তিনি যিনি আছেন দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে , হ্যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের হস্তক্ষেপে মহিষ-ট্রাম্প এখন জাবর কাটছেন মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় । আর তাকে ঘিরে আজ যথেষ্ট ভীড়ও ছিল ।
কোরবানির হাটে তোলা সোনালী চুলের বিরল অ্যালবিনো মহিষটির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কেন তার এই নাম? আর এই নামকরনে শুধু দেশে নয় বিশ্ব গনমাধ্যমেও আলোচিত হয়েছে বিষয়টি।

কোরবানির ঈদের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক বিরল প্রজাতির মহিষ। যার মাথার সোনালী চুলের স্টাইল হুবহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিগনেচার হেয়ারস্টাইলের কথা মনে করিয়ে দেয়। মহিষটির ক্রিম রঙের শরীর, হালকা সোনালি চুল এবং গোলাপি নাকের কারণে মিল আছে ট্রাম্পের সাথে। তাই তার নামও দেওয়া হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।


প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে নানা চমৎকার আর বাহারি নামের গরু-মহিষ ভাইরাল হয়, নিউজ করা হয়। এবার যেন সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। ঈদ উদযাপনের আগে থেকেই সারা বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর নেট দুনিয়ায় আলোড়ন তোলে মহিষটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট খোদ ট্রাম্পও এ কথা জানেন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে খামারিরা যখন তাদের সেরা পশুটি হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা মেলে এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীটির। এটি মূলত একটি বিরল প্রজাতির অ্যালবিনো বা ধবল মহিষ। সাধারণ মহিষের গায়ের রঙ কালো বা ধূসর হলেও, এর পুরো শরীর ধবধবে সাদা।


নারায়ণগঞ্জ শহরের এক খামারে এই মহিষটিকে লালন-পালন করা হচ্ছিল। খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, মাসকয়েক আগে তিনি প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড (৬৮০ কেজি) ওজনের এই বিশাল মহিষটি কিনেছিলেন। মহিষটির কপালে ও মাথায় রয়েছে একঝাঁক সোনালী চুল। আর সেই চুলের ছাঁট ও রঙের মিল দেখে জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখের বশে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
খামারি মৃধা বলেন, এটি কেবলই একটি প্রতীকী নাম, আমরা প্রাণীটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু নাম দেওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি তুমুল ভাইরাল হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত মানুষ খামারে ভিড় জমাতে থাকেন মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য। মালিকের মতে, বিশাল আকৃতির হলেও এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বভাবের দিক থেকে অত্যন্ত শান্ত ও আদুরে, যাকে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশেষ যত্নে খাবার খাওয়াতে হয়।


গায়ের রঙ ধবধবে সাদা, আর মাথায় ঠিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্টাইলের একঝাঁক সোনালী চুল! এই অদ্ভুত মিলের কারণেই রাতারাতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’ ও ‘সিএনএন’-এর বুকেও জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের এই ট্রাম্প।
নেট দুনিয়ায় ঝড় তোলা এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর ভাগ্য অবশ্য সাধারণ অন্য দশটা কোরবানির পশুর মতো হয়নি। এর বিরল রূপ আর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত একে এক নতুন জীবন এনে দিয়েছে। মহিষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এবং নিরাপত্তা বিবেচনার বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের নজরে আসে। অবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বয়ং মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেন।


মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জনসাধারণের ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ এবং সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে মহিষটিকে কোরবানি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর ক্রেতাকে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অবশেষে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং প্রাণীটির বিরল বৈশিষ্ট্যেরই জয় হলো। ঈদের আগের দিন ২৭ মে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

You might also like