যুদ্ধবন্ধের সমঝোতা আলোচনা ভেস্তে যেতেই বাড়লো তেলের দাম
প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে
পাকিস্তানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধবন্ধের সমঝোতা বৈঠকের সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও বৈঠক ভেস্তে গেলে ফের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর এ দাম বাড়ে ।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। খবর আলজাজিরার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৭০ ডলারের কাছাকাছি। তবে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিভিন্ন সময়ে এই দাম ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার খবরের প্রেক্ষাপটে তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। সে সময় জুন মাসে সরবরাহের জন্য তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.২০ ডলারে নেমে এসেছিল।
কিন্তু দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়া এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগের পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। কূটনীতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং সরাসরি নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি এবং ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সংকট আরও তীব্র হবে। এর ফলে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চরম মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।
