পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য বেসরকারি খাতের ৩৬ প্রতিনিধি নিয়ে পরামর্শক কমিটি

অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রধান করে গঠিত কমিটিতে আছেন অর্থনীতিবিদ,ব্যবসায়ি, গবেষকি,এনজিও ব্যাক্তিত্ব ,শিক্ষক,আমলা ও ব্যবসায়ি সংগঠনের নেতারা

8

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নীতি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি অ্যাডভাইজরি বা পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে সরকার। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এ কমিটি। যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধির যাত্রা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ পরিকল্পনা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ৮ এপ্রিল গঠিত এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে। এই কমিটিতে দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের ৩৬ জন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

- Advertisement -

আজ বুধবার শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি কক্ষে এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটি প্রধান অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাশেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন।

উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটিতে রয়েছেন বিআইজিডির প্রফেসরিয়াল ফেলো সুলতান হাফিজ রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল-আওয়াল।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, পিপিআরসির নির্বাহী সভাপতি হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

এ ছাড়া বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার, বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক এবং র‍্যাপিডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমানও এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাত থেকে যুক্ত হয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী এবং আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আক্তার হোসেন, বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের অংশ হিসেবে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এবং বিআইজিডির মির্জা এম হাসান যুক্ত হয়েছেন।

একাডেমিক অঙ্গন থেকে এআইটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নুরুল আমিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ তসলিমও রয়েছেন এই কমিটিতে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আবদুল হান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিত্ব করছেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক খান।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত থেকে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বেসিসের সভাপতিরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার খাতের প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরও রয়েছেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মনজুর হোসেন।

এই কমিটির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ, বেসরকারি খাতের উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন এ কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। এটি প্রণয়নে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।

সুত্র> প্রথম আলো

You might also like