মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নতুন হুমকি “ “জলদি জলদি ভাগো! তাড়াতাড়ি পালাও “

‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতিতে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশীরা

12

“জলদি জলদি ভাগো! তাড়াতাড়ি পালাও, দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামাকাপড় পরবে কেন? জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!”পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক হুংকারে শত শত মানুষ পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে নবান্নের নতুন সরকার রাজ্যে শুরু করেছে তথাকথিত ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি। রাতারাতি জেলাগুলোতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা অস্থায়ী আটককেন্দ্র চালু করা হয়েছে। হাকিমপুর সীমান্তে মানুষ অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশে প্রবেশ করার জন্য।

- Advertisement -

- Advertisement -

উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত চেকপয়েন্ট। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সেখানে এখন ‘অনুপ্রবেশকারীদের পালানোর হিড়িক’ চলছে। মে মাসের তপ্ত রোদে ‘ইছামতী পরিবহন’ নামের লোকাল বাসে করে প্রতিনিয়ত সীমান্তে এসে নামছেন শত শত মানুষ। তাঁদের সঙ্গে থাকা বড় বড় লোহার ট্রাঙ্ক, প্লাস্টিকের বালতি আর চটের বস্তা—যেন শেষ সম্বলটুকু কোনোমতে একটা বোঁচকায় বেঁধে তাঁরা চলে আসছেন। আটককেন্দ্রের হয়রানি এড়াতে সর্বস্ব ফেলে বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো জানায়, তারা অভাবের তাড়নায় ওপারে গিয়ে নিউটাউন, দমদম বা ডানকুনির মতো এলাকায় কাজ করতেন। প্রবীণ এক দিনমজুর বললেন, তাঁর বাড়ি খুলনায়; দুর্গানগরে রঙের কাজ আর জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করতেন। তিনি বললেন—সরকার তাঁদের আর রাখতে চাইছে না।

কলকাতার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বাসন মাজার কাজ করতেন মিতি বিবি। দিনমজুর রবি সর্দার জানালেন টিভির পর্দায় যখন মালদার চন্দনপার্ক কিংবা মুর্শিদাবাদের পদ্মাভবনে হোল্ডিং সেন্টার চালুর খবর আর সরকারের হুমকি ছড়াল, তখন উপায় না দেখে তাঁরা দলবেঁধে চলে এসেছেন বর্ডারে।

ওপার বাংলার অভ্যন্তরীণ ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’র এই আগ্রাসী চাল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর এক বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা । আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠাতে হলে দুই দেশের পতাকা বৈঠক ও যৌথ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ভারতের নতুন সরকার যেভাবে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে একতরফা পুশব্যাকের আবহ তৈরি করছে, তা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের পরিপন্থী।

এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-র সামনে। প্রকৃত বাংলাদেশিদের মানবিক মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি, এই কড়া নীতির সুযোগে ওপার থেকে ভারত তাদের নিজস্ব কোনো জনগোষ্ঠী বা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) কোনো অপচেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়েও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

একই সঙ্গে নবান্নের “জলদি ভাগো” স্লোগানটি আজ সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের জীবন্ত দলিল হয়ে রইল।

You might also like