ঈদের নামাজ জাহাজেই পড়লেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা

পারস্য সাগরে অবরুদ্ধ ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে

8

ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, পরিবারের সুস্থতা  কামনা করা হয় প্রায় সব ঈদ জামাতেই।পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসমান জাহাজেই ঈদের জামাত পড়ে এই কামনার সাথে সাথে  দ্রুত ঘরে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন ৩১ জন বাংলাদেশী। কারন তারা জাহাজে আটকে আছেন ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে।

- Advertisement -

- Advertisement -

পরিবার-স্বজন থেকে হাজার মাইল দূরে, পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসমান জাহাজেই ঈদুল আজহা পালন করলো ৩১ বাংলাদেশি নাবিক ও জাহাজের কর্মীরা ।  ইরানের অনুমতি না মেলায় এখনো দেশে ফিরতে পারেননি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা।

ঈদুল ফিতরের পর এবার কোরবানির ঈদও তাদের কাটাতে হলো জাহাজে বসেই। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার আশায় বুক বাঁধলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি।

বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাহাজটির নেভিগেশন ব্রিজে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। জাহাজের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম খানর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জটিলতায় পড়ে জাহাজটি।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি মেলেনি জাহাজটির। এ সময় অন্য অনেক দেশের জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশি এই জাহাজটি এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।নাবিকদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও নাবিকদের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ত্যাগের অনুমতি পাওয়া যায়নি।

ঈদ উপলক্ষে জাহাজে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট কাটেনি নাবিকদের। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছেন তারা।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ‘কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারব, এখনো নিশ্চিত নই। দীর্ঘ তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সাগরে আটকে আছি।’

You might also like