এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুদকে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগ দুটি প্রাথমিক যাচাই শেষে তদন্ত করা হবে
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের দরজায় পৌঁছেছে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে করা দুইটি গুরুতর অভিযোগ।
৮ এপ্রিল ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ এপ্রিল নতুন করে অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভী। দুজনের একই অভিযোগ। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নিবন্ধন অধিদপ্তরে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার কেন্দ্রে ছিলেন আসিফ নজরুল, আর মাঠে ছিলেন তার ঘনিষ্ঠদের একটি চক্র।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাব রেজিস্ট্রার পদে প্রতিটি পোস্টিং এর জন্য আদায় করা হতো ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। আর সাভার, রূপগঞ্জ, টঙ্গী বা মুন্সীগঞ্জের মতো লাভজনক এলাকায় বদলির বিপরীতে কারো কারো কাছ থেকে আদায় হয়েছে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত। এই বদলি বাণিজ্য এতটাই চাঙ্গা ছিলো যে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে একই কর্মকর্তাকে বারবার বদলি করা হতো। নিয়ম অনুযায়ী একই স্থানে দুই বছর থাকার কথা থাকলেও, সেই মেয়াদ কমে দাড়িয়েছিলো এক মাস। আবার কয়েকজনকে ৭ মাসের মধ্যে তিন-চারবার বদলি করে টাকা আদায় করেছে এই চক্র।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল—এই আট মাসেই ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে।এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের জায়গা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে উঠে এসেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতো আসিফ নজরুলের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি— মুন্সিগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান ও ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন। এরমধ্যে রমজান বদলি সম্রাট হিসেবেই পরিচিত ছিলো। আর মাইকেলের নিয়ন্ত্রণে থাকতো সাব-রেজিস্ট্রার নেটওয়ার্ক। তাদের মাধ্যমেই বদলি তালিকা চূড়ান্ত, দর নির্ধারণ এবং লেনদেন সম্পন্ন হতো । এছাড়া ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গাজীপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার ও কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে অধিকাংশ লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
রাজধানীর বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে এসব বদলি বাণিজ্যের আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত করা হতো । সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে যেত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রমজান ও মাইকেল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নানা অনিয়মে যুক্ত ছিলো বলে জানা গেছে।
সরকারি নিয়মে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে তা ছিল উপেক্ষিত।
এমনকি ঘুষ দিতে দেরি হলে বদলির আদেশ স্থগিত রাখার অভিযোগও এসেছে।
মোট কথা, এই অনিয়ম যেন এক সুপরিকল্পিত মডেলে পরিণত হয়েছিলো সাব-রেজিস্ট্রি অধিদপ্তরে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগ দুটি প্রাথমিক যাচাই শেষে তদন্ত করা হবে।
তবে অভিযোগের সামান্য অংশও যদি সত্য হয়, তাহলে এটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।।
