৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ সফল না হলে আম-ছালা দুইই যাবে !

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অর্থায়ন প্রকল্পের বিশ্লেষণ করেছেন উদ্যোক্তা সৈয়দ নুরুল ইসলাম

17
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সংকটাপন্ন বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে এবং প্রায় ২৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রণোদনা ও পুনঃঅর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। একে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে “লো-লেভেল ইকুইলিব্রিয়াম” অবস্থা থেকে বের করে আনার একটি বড় পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ বলা যায়।
- Advertisement -

- Advertisement -

বাংলাদেশের শিল্পখাতের সংকটের শুরু মূলত ২০২০ সালের করোনা মহামারীকে কেন্দ্র করে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা উত্তেজনা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে বলা যায় দেশের পুরো অর্থনীতিই আজ চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।
এই অচল অর্থনীতিকে সচল করার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এত বড় অংকের অর্থের যথাযথ ও বাস্তবসম্মত ব্যবহারের উপর।
প্রথমেই প্রশ্ন আসে—বন্ধ কারখানাগুলো বন্ধ হলো কেন?
গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার সংকোচনের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো—শুধু পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে সেই কারখানাগুলোকে আবার সচল করা সম্ভব হলেও, দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা যাবে কি?
একজন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি বলব—“শুধু টাকা দিয়ে কারখানা চালু করা যেতে পারে, কিন্তু টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা, সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।”
তাই আমার মতে, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর আগে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান মূলধন সংকটে থেকেও কোনো রকমে টিকে থাকার লড়াই করছে, তাদেরকে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করাই হবে অধিক কার্যকর পদক্ষেপ। এতে বিদ্যমান উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বাজার কাঠামো রক্ষা পাবে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে নতুন অর্থ ঢালার পরিবর্তে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। যেসব কারখানার পুনরুজ্জীবনের বাস্তব সম্ভাবনা নেই, তাদের জন্য সহজ শর্তে (যেমন ১% ডাউন পেমেন্ট ও ১০ বছর মেয়াদি কিস্তি) আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করে “ONE TIME EXIT” বা সম্মানজনক প্রস্থান নীতির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
অন্যথায় অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে হয়— “আমও যাবে, ছালাও যাবে।”
You might also like