অবশেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য !

10

 

- Advertisement -

- Advertisement -

অবশেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য। পহেলা বৈশাখে এবার চারুকলা থেকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই শোভাযাত্রা বের হবে—সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে গত বছর অহেতুক বিতর্ক উসকে দেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মঙ্গল শোভাযাত্রা নামেই এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে এবং এর সঙ্গে মানুষের গভীর আবেগ ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন:
নাম পরিবর্তন করা ছিল একটি অনর্থক কাজ। ‘আনন্দ’ আর ‘মঙ্গল’ এর মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। একটি প্রতিষ্ঠিত নাম পরিবর্তন করে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি, বরং বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। সরকারের লক্ষ্য এখন এই অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে তার মূল রূপে ফিরিয়ে আনা।
গত বছর (২০২৫ সালে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৮৯ সালের শুরুর দিকের দোহাই দিয়ে নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ রেখেছিল। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বিষয়টিকে ‘শিকড়ে ফেরা’ এবং ‘সব গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সে সময় শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’।
সাংস্কৃতিক বোদ্ধারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো যখন এটিকে ‘মানবতার স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন এর নাম ছিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ফলে নাম পরিবর্তন করলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই স্বীকৃতির ধারাবাহিকতা বা পরিচয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। সংস্কৃতি মন্ত্রীর বর্তমান অবস্থান সেই আশঙ্কা দূর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চারুকলা অনুষদ বরাবরের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। নাম নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও প্রশাসন একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পহেলা বৈশাখ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এবারের আয়োজনে বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

You might also like