হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রোগীদের ভোগান্তি
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসককে ধাক্কা ও লাঞ্ছনার অভিযোগের পর শিশুর স্বজনদের মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাত থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
জানা গেছে, বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি ডাবতলা এলাকার খোকন মিয়ার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে নিহাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত সোমবার তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিকে রক্ত ও দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার দুপুরের পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার দিকে শিশুটি মারা যায়।
শিশুর বাবা খোকন মিয়ার অভিযোগ, বিকেলের দিকে ছেলের অবস্থার অবনতি হলেও দায়িত্বরত নার্সদের কয়েকবার ডাকলেও কেউ সাড়া দেননি। তিনি বলেন, ‘আমার বোন বারবার নার্সদের ডাকছিল। আমি হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই আমার সন্তান মারা যায়। পরে এক চিকিৎসক এলে আমার বোন উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এখন এসে কী হবে?’ একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসককে ধাক্কা দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর চিকিৎসকরা দাবি করেন যে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও আনসার সদস্যসহ ৪০ থেকে ৫০ জন এসে তাদের মারধর করেন এবং কয়েকজন স্বজনকে আটকে রাখেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান।
অন্যদিকে চিকিৎসকদের দাবি, শিশুর স্বজনরা প্রথমে এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বগুড়া বিএমএর জেলা সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ বলেন, ‘ওই শিশুর পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য একজন নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন এবং তাঁর নিকাব টেনে খোলার চেষ্টা করেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে এক হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। তারপরও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত হবে।’
ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হাসান বলেন, ‘আমরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিচ্ছি। কিন্তু সামান্য বিষয়েই চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানান, হাসপাতালের পরিচালক শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আবুল ফজলকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘প্রথমে একজন এটেনডেন্ট নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত দেন এবং তাঁর নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। তবে কোনো ধরনের হামলাই সমর্থনযোগ্য নয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
