রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর জাতীয়তা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠলেও পরে ছাত্রদলের নেতারাই ডাকসুর নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগের ঘটনায় ।সেগুলোতে দেখা যায় জুবায়ের ও মোসাদ্দেককে চড়-ঘুষি দেয়া হচ্চে । ধাক্কা দিয়ে তাদের একটি থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে । আবার কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে দেখা যাচ্ছে উচ্ছৃংখল জনতা থেকে ডাকসুর দুই নেতাকে আগলে রেখে সরিয়ে নিতে।

জানা গেছে পরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কিছু কর্মীকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় । ডাকসুর ভিপি সাদিক কাইয়ুম সারা রাত থানায় অবস্থান করে ভোরে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায় । সকাল পযর্ন্ত অবশ্য ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাতের ঘটনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে যান জুবায়ের ও মোসাদ্দেক। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের উপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভিও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। ছবিটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ছিল বলে জানা যায়। ছবিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে বলে দেখা গেলেও, তিনি সেটিকে ভুয়া দাবি করে সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। এ সময় সেখানে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ থানায় প্রবেশ করলে আগে থেকে অবস্থানরত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের ওপর কিল-ঘুষি দিয়ে হামলা করা হয়।
এ সময় ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত জাইমা রহমানের ছবি থেকে
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যসম্বলিত ছবিকে ঘিরে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যায় তিনি স্ক্রিনশটটিকে ভুয়া দাবি করে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।
পরে রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ সহ বেশ কিছু কর্মী নিয়ে তারা আসেন।
উভয় দলের মধ্যে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। এলোপাথাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন।
সাংবাদিক আহত হওয়ায় ছাত্রদলের দুঃখ প্রকাশ
রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। নাছিরউদ্দিন লিখেন, ‘গতকাল একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন শাহবাগ থানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য ও গুপ্ত শিবিরের নেতাকর্মীদের সৃষ্টিকৃত মব এবং ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’ তিনি আরও লিখেন, ‘এ ঘটনার জন্য আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ছাত্রদল সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অসামান্য।’
