ঢাকা বারের নির্বাচনে বিএনপির আইনজীবীদের কাছে জামায়াত-এনসিপির ভরাডুবি
সবুজ প্যানেল একটি পদেও জিততে পারেনি , ভোট পড়েছে ১৫ শতাংশ,আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ভোটে প্রার্থী হতে পারেনি
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। কার্যকরী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের সব কটিতেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল একটি পদেও জয় পায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো পদে বিজয়ী হননি। দেশের সর্ববৃহৎ বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল ২৩ পদেই নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) রাত ১২ টার দিকে ঢাকা বার নির্বাচন কমিশন ভোট গণণা শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০ হাজার ৭৮৫ জন ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার ১৬৯ জন ভোট দেন। সেই হিসেবে ভোট পড়েছে ১৫ শতাংশের মত । এবার আওয়ামী লীগপন্থী কোনো আইনজীবী ভোটে অংশ নিতে পারেননি। কয়েকজন চেষ্টা করেও এই সংক্রান্ত নতুন বিধির কারনে এবং অংশগ্রহনকারিদের বাধার মুখে তারা প্রার্থী হতে পারেননি।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ জোট করে নীল প্যানেলে নির্বাচন করে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি সবুজ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
বিএনপি জোট থেকে সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া পেয়েছেন ৪৪৬৮ ভোট। অন্যদিকে জামায়াত জোট থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন ২১৭৯ ভোট পেয়ে ফেল করেন। স্বতন্ত্র পদে মো ইউনুস আলী বিশ্বাস ১৪৬ ভোট পান।অন্যদিকে বিএনপি থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল কালাম খান ৪০৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত থেকে এ পদে আবু বক্কর সিদ্দিক ১৬৬১ ভোট পেয়ে ফেল করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে এ পদে মো শহিদুল্লাহ ৪২৪ ও বলাই চন্দ্র দেব ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন।
এছাড়া বিএনপি জোট থেকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে রেজাউল করিম চৌধুরী ৪৫০৮ ভোট, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ ৪৪৩৩ ভোট, ট্রেজারার আনিসুজ্জামান আনিস ৩৯৪৭ ভোট, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুমিশ সওদাগার আ্যনি ৪৩৫৫ ভোট, সহসাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল ৩৬৯৯ ভোট, লাইব্রেরি সেক্রেটারি খন্দকার মাকসুদুল হাসান ৪৩২০ ভোট, কালচালার সেক্রেটারি মারজিয়া হিরা ৩৮৭৯ ভোট, অফিস সেক্রেটারি আফজাল হোসেন মৃধা ৩৯৪০ ভোট, স্পোর্টস সেক্রেটারি সোহেল খান ৪০৯৪ ভোট, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি এ এইচ এম ফিরোজ ৪১৪৪ ভোট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম শফিক ৪৫৯৭ ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দীন শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা জামায়াত এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী এস এম কামালউদ্দীন ও আবু বাক্কার সিদ্দিককে পরাজিত করেন।
অন্যান্য পদের বিজয়ীরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সম্পাদক মো. ইলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (শফিক)।
১০টি সদস্য পদের বিজয়ীরা হলেন- ফারজানা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামুন, মোহাম্মদ আদনান রহমান, সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান, মামুন মিয়া, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল, মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম, এইচ এম রেজাউল সাঈদ ও শওকত হোসেন।
কারচুপির অভিযোগ এনসিপির আইনজীবীদের
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনি সেল ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ঢাকা বার নির্বাচনে এবার সবুজ প্যানেলে নির্বাচন করে এনসিপি।
শুক্রবার (০১ মে) এনসিপির ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।
সংগঠনটি থেকে আরও বলা হয়, ‘ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভিতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।’
