অতিরিক্ত সচিবদের ইকোনমি ক্লাসে বিমানে ভ্রমণের নির্দেশ

4

- Advertisement -

- Advertisement -

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে এবার সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ভুক্ত কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে বিমানের বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণিতে (ইকোনমি ক্লাস) ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

আদেশে বলা হয়, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারিকৃত সরকারি ভ্রমণ ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা সত্ত্বেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা একটি পরিপত্রে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাপক ব্যয়সংকোচন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়। সেখানে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন খাতে সীমা নির্ধারণ ও কিছু ব্যয় সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে ব্যয় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে এবং আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি করা যাবে না। একই নিয়ম অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও প্রযোজ্য, তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো এ সীমার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয় আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভবন নির্মাণখাতে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেসব নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। ভূমি অধিগ্রহণে পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হলেও উন্নয়ন বাজেটে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যয় করা যাবে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।

একই দিন জারি করা আরেক আদেশে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

You might also like