কৃষক দলের নেতা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে
বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাল্টা অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে কৃষক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর সমর্থকেরা স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ১০-১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে দাবি দলটির নেতারা। বুধবার রাতে উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে কমেন্ট করার জের ধরে কয়েকদিন আগে কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম, তাঁর চাচা নাজের আলী, বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা রিমন হোসেন ও সমর্থক আব্দুল আজিজের তর্কাতর্কি হয়।
পুরোনো ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার তাদের মধ্যে আবারও তর্কাতর্কি-ধাক্কাধাক্কি হয়। রাতে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে জামায়াত সমর্থক আব্দুল আজিজ, মেশারেফ হোসেন, মাজিদ, লিমন, রিমন, আব্দুল আলীম, আবু বকর, মিরাজ ও মাসুদের সঙ্গে আবারও তর্কাতর্কি হয়। পরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী এনামুল হকের ভাষ্য, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘষের্র একপর্যায়ে আবুল কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে আবুল কাশেমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেখান থেকে কিছু কর্মী-সমর্থক কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক ১০-১২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা জামায়াতের সমর্থক আব্দুল আজিজ, নায়েব আলী ও মতিয়ার রহমান লিটনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আব্দুল আজিজের বড় ভাই মেশাররফ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা ও মাজিজ মন্ডলসহ কয়েকজনের বাড়ি।
মতিয়ার রহমান লিটন বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ তিনি সংঘষের্র সময় ছিলেন না। ঘটনার কিছুই জানেন না।
গুলনাহার বেগম নামের এক নারীর অভিযোগ, নিজ পক্ষের লোকজনের ইটের আঘাতেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। অথচ তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর তিন ছেলের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে।
তবে স্থানীয় যুবদল নেতা সাইদুর রহমান বিটু বলেন, আবুল কাশেম বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জামায়াত সমর্থক লোকজন।
এদিকে আবুল কাশেমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেখান থেকে কিছু কর্মী-সমর্থক কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক ১০-১২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা জামায়াতের সমর্থক আব্দুল আজিজ, নায়েব আলী ও মতিয়ার রহমান লিটনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আব্দুল আজিজের বড় ভাই মেশাররফ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা ও মাজিজ মন্ডলসহ কয়েকজনের বাড়ি।
মতিয়ার রহমান লিটন বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ তিনি সংঘষের্র সময় ছিলেন না। ঘটনার কিছুই জানেন না।
গুলনাহার বেগম নামের এক নারীর অভিযোগ, নিজ পক্ষের লোকজনের ইটের আঘাতেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। অথচ তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর তিন ছেলের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে।
তবে স্থানীয় যুবদল নেতা সাইদুর রহমান বিটু বলেন, আবুল কাশেম বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জামায়াত সমর্থক লোকজন।
কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টুর ভাষ্য, তুচ্ছ ঘটনার জেরে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে পরিবারটির লোকজন বিএনপি ও জামায়াতে বিভক্ত। এ ঘটনার জেরে রাতে অনেকের বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেনের দাবি, আবুল কাশেমকে কেউ হত্যা করেননি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনা নিয়ে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীকে হত্যা করছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না।
বিক্ষোভ মিছিল ও মামলা
এ দিকে কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত আবুল কাশেমের ছেলে মেহেদি হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, বুধবার রাতেই কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। একটা রান্নাঘরে সামান্য আগুন দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমানে সেখানে পুলিশ আছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুত্র: দৈনিক সমকাল
