শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার সাথে জড়িত বিএনপি নেতা বহিস্কার
শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষ দুজনই অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির নেতারা কলেজে এসেছিলেন চাঁদাবাজি করতে
রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপি নেতার জুতাপেটার শিকার শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষ দুজনই অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির নেতারা কলেজে এসেছিলেন চাঁদাবাজি করতে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা কলেজের জমি দখল করে খেলেও কলেজকে দেয়া হয়নি কোন অর্থ। এসব কারনেই তারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে । ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পেরুলেও পুলিশ কোন মামলা করেনি, গ্রেফতার করা হয়নি কাউকেই। তবে মারপিটের ঘটনায় জড়িত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দাউকান্দি কলেজে ডিগ্রী পরীক্ষা চলাকালে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে কলেজে প্রবেশ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা ইসলামী জলসা ও মসজিদের উন্নয়নে অনুদান দাবি করেন।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রায়ই নানা অজুহাতে কলেজে চাঁদাবাজি করতেন তারা। প্নতিবাদ জানাতে ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কলেজ শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন।তবে হামলাকারিরা বলছেন, তারা ইসলামী জালসার জন্য গাড়ী পার্কিং জায়গা এবং অনুদান চাইতে গিয়ে প্রথমে হামলার শিকার হন। এরপর তারা মারপিট করেন।

এদিকে ঘটনার ৪০ ঘন্টা পেরুলেও এঘটনায় পুলিশ কাউকেই আটক করেনি। পুলিশ বলছে, কেউ কোন অভিযোগ দিচ্ছে না। এদিকে নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরনের ঘটনায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে বহিস্কার করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী

রাজশাহীর দুর্গাপূরে ইসলামি জালসা দাওয়াত ও মসজিদ উন্নয়নের অনুদান চাইতে গিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে কলেজ শিক্ষিকার থাপ্পড় খেয়েছেন বিএনপি নেতা । পরে তিনি কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করে পতিতা আখ্যা দিয়েছেন। পরে বিএনপি-নেতা-কর্মীরা কলেজটিতে হামলা করে ওই শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষসহ ৫ শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। এসময় কলেজে তারা ভাংচুর চালায়।

বিএনপি নেতার সঙ্গে শিক্ষিকার এই মারপিটের ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনার পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর জানিয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে বহিস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ইসলামী জালসার দাওয়াত কার্ড বিতরণ ও মসজিদে উন্নয়নে অনুদান চাইতে দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান বিএনপির জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ১নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো: এজদার, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দিন, জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল সভাপতি জয়নাল, বিএনপির নেতা মাছ ব্যবসায়ী শাহাদ আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়নে কিছু অনুদান দাবি করেন। একই সঙ্গে জালসায় কলেজের মাঠে গাড়ী রাখার অনুমতি চায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এসময় অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য পাশে থেকে ভিডিও করতে থাকেন শিক্ষিকা প্রদর্শক
আলিয়া খাতুন। ভিডিও করতে নিষেধ করলে আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আলিয়া খাতুন বিএনপি নেতা শাহাদ আলীকে নিজের বাড়ীর কাজের লোক ছিলো দাবি করে গালে থাপ্পড় মারেন। এসময় বিএনপি নেতা শাহাদ আলী পায়ের স্যান্ডেল খুলে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আলিয়ার চুল ধরে মাথা টেবিলের উপর রেখে পেটান। এসময় উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীরা শিক্ষিকাকে জুতা মারতে পাশ থেকে মার মার বলে চিৎকার করে সমর্থন দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পরে আলিয়া কক্ষের বাহিরে বিএনপি ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো: এজদার ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দিন, কৃষকদল নেতা জয়নালকে তেড়ে তেড়ে গিয়ে মারপিট করতে থাকেন।
এসময় বিএনপি নেতারা শিক্ষিকাকে “নষ্টপল্লীর পতিতা” বলে আখ্যা দিয়ে গালি দিতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমদফার এই মারামারির পর দুপুরে বিএনপি নেতা আকবর, জয়নাল, আফাজের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী কিছুক্ষণ পর আবারো কলেজে প্রবেশ করেন।
এসময় তারা অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলিয়াকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে কলেজে ভাংচুর করে চলে যান। এতে অন্তত ৫ জন শিক্ষক আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাক ও আলিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়।
শিক্ষকরা জানান, হামলার সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিলো। ৪০ থেকে ৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মী ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে এই হামলা করে। এসময় তারা কলেজে ভাংচুরও করে। হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি।
এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, বেলা সাড়ে ১১ টায় তখন কলেজে ডিগ্রী পরীক্ষা চলছিলো। কলেজের সীমানায় তখন ১৪৪ ধারা চলছিলো। বিএনপির ৪০ থেকে ৫০ জন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজে ঢুকে যায়। তখন আলিয়াকে দিয়ে তাদের মধ্যে ৫ জনকে আসতে আসতে বলি। তারা কথা না শুনে সবাই ঢুকে পড়ে। তখন বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
মারপিটের শিকার কলেজ শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন বলেন, এরা প্রতিমাসে দলধরে আসে চাঁদাবাজি করতে। প্রতিবাদ জানাতেই ভিডিও করছিলাম। এদের মধ্যে একজন আমার বাড়ীর কাজের লোক ছিলো। সে কেন এসেছে জানতে চেয়ে তাকে বের হয়ে যেতে বলি। তখন সে আমার দিকে তেড়ে আসে । তখন তাকে থাপ্পড় দিলে সে আমাকে জুতা দিয়ে মারতে থাকে। তিনি বলেন, এঘটনার পর দুপুরে শাহাদের ছেলে লিটনসহ একদল বিএনপি নেতাকর্মী কলেজে ঢুকে আবারো আমাদের মারপিট করে, কলেজে ভাংচুর করে।
বিএনপি নেতা শাহাদ আলীর কাছে জুতা মারার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ৩০ বছর আগে তাদের বাড়ীতে কাজ করতাম- এটা সত্য। কিন্তু এখন আমার পজিশন বদলেছে- এটা উনি জানেন না। আমি ৯১ সাল থেকে বিএনপি করি। মাছের বড় ব্যবসা আমার। ওই শিক্ষিকা প্রিন্সিপালের রুমে আমাকে দেখেই চিৎকার করে বলে আমার বাড়ীর কাজের লোক এখানে আসলো কিভাবে? তখন আমি বলতে যাবো- ওই সময় হঠাৎ থাপ্পড় মারে। তখন আমিও রাগের মাথায় তাকে স্যান্ডেল দিয়ে কয়েকটা মেরে সেখান থেকে চলে আসি। পরে অন্যরা গিয়ে তাদের পিটিয়েছে। আমি ভয়ে আর যাইনি।”
জয়নগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দীন বলেন, “আমাকে মাঠের মধ্যে ধরে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। ওই মহিলা একাই আমাদের ৫ থেকে ৬ জনকে মেরেছে। পরে সবাই মিলে তাদের মারধর করেছে।” তিনি বলেন, কলেজের প্রিন্সিপালকে জালসায় দাওয়াত করতে এবং কলেজের মাঠে জালগার গাড়ী রাখার অনুমতি নিতে গিয়েছিলাম। মসজিদের উন্নয়নে অনুদান চেয়েছি, এটা তো চাঁদা নয়।”
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার জানিয়েছেন, তারা জালসার দাওয়াত করতে গিয়েছিল । পরে বাকবিতন্ডায় মারামারি হয়েছে।কোন মামলা হয়নি। এখনো অভিযোগ আসেনি। তবে কলেজ অধ্যক্ষ মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
