ঢাকার দায়িত্ব এখন দুই নারীর হাতে , প্রশাসনিক ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত

7

দেশের হৃদপিণ্ড যে রাজধানী , তার অবস্থান ঢাকা জেলায় । আর সেই জেলা পুরোটার আইন-শৃঙখলা সামলাবেন এখন দুই নারী। মেগাসিটি ঘিরে ঢাকা জেলার সাভার,দোহার,নবাবগঞ্জ,টঙ্গী গুরুত্বপুর্ণ সব জনপদ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ।  ঢাকা জেলার ইতিহাসে এই প্রথমবার সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন—উভয় শীর্ষ পদের চাবি এখন দুই নারী কর্মকর্তার হাতে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে ফরিদা খানম এবং পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে শামীমা পারভীন এখন ঢাকা সামলানোর গুরুদায়িত্বে।
ঢাকার মতো একটি জনবহুল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা এর আগে কখনো একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার পদে নারী কর্মকর্তার যুগলবন্দী দেখেনি। ১৯৬০ সালে ঢাকা জেলায় ডিসি পদ সৃষ্টির পর দীর্ঘ ৬৬ বছরে ফরিদা খানমই প্রথম নারী, যিনি এই চেয়ারে বসলেন। অন্যদিকে, শামীমা পারভীনের নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা জেলা পুলিশের নেতৃত্বেও প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তার অভিষেক হলো।
ফরিদা খানম: মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞ কাণ্ডারি
গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফরিদা খানমকে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি ধাপে তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে উপসচিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর রয়েছে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার ইউএনও হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
নরসিংদী জেলার সন্তান ফরিদা খানম এখন ঢাকার সাধারণ প্রশাসনের শীর্ষ অভিভাবক।
শামীমা পারভীন: অপরাধ দমনে আধুনিক নেতৃত্ব
ফরিদা খানমের যোগদানের ঠিক আট দিন পর, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শামীমা পারভীনকে ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। গত দুই দশকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এখন মাঠ পর্যায়ের এই বিশাল বাহিনীর নেতৃত্বে। ময়মনসিংহের এই কৃতী সন্তান বর্তমান এসপি মো. আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ঢাকার মতো একটি অপরাধপ্রবণ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে একই সঙ্গে দুই নারী কর্মকর্তার এই অবস্থানকে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন। নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ডিসি ও এসপি অফিসের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী কর্মকর্তারা সাধারণত স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে আপসহীন হন।

- Advertisement -

- Advertisement -

You might also like