রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড , সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর ফান্ড ব্যবহারে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত
নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে বিভিন্ন সংগঠনকে অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজনৈতিক প্রচারণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড ব্যবহারের এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে সমালোচনা চলছে দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ দাবি করেছে, হ্যা ভোটে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এক কোটি টাকা পেয়েছে তাদের সংগঠন। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আসা এই অর্থের বিষয়টি সংগঠনের অন্যান্যদের কাছ থেকে এতদিন গোপন রাখা হয় । তাছাড়া কিভাবে, কোথায় সেই অর্থ ব্যয় করা হয় তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।

তবে নিয়ম অনুযায়ী, অনিবন্ধিত কোনো সংগঠনের এই তহবিল পাওয়ার কথা নয়। তাই, “সেড” নামের একটি ফাউন্ডেশন গঠন করে সেই অর্থ গ্রহণ করা হয় বলে দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতার। এমনকি পুরো প্রক্রিয়াটি অডিটও করা হয়েছে বলে দাবি তার।
কিন্তু বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। এই কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা ঢালার লিস্ট আরো লম্বা। জানা গেছে, একই খাতে আরও কয়েকটি সংগঠন অর্থ পেয়েছে। বদিউল আলম মজুমদারের সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন পেয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা, আর হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি পেয়েছে ২০ লাখ টাকা।

এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে ততকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই সহায়তার বিষয়টি সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেখানে অনিবন্ধিত সংগঠনকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তিও উঠেছিল।
এবিবি বলছে, জনগণকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতেই নাকি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে এ অনুদান দেয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক কোন প্রচারণায় সিএসআর ফান্ড থেকে ব্যয় করতে পারে কিনা? কারণ নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু, অবকাঠামো এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে খরচ করতে পারে। এরমধ্যে গতবছর নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে সিএসআর ফান্ড থেকে অনুদানের নিয়ম করা হয়।
এ নিয়মের বাইরে যেয়ে রাজনৈতিক কাজে কেন ব্যাংকগুলোর টাকা খরচ করা হলো আর কেনই বা ব্যাংকগুলো টাকা দিলো, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জনসাধারণের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এর সঠিক ব্যাখ্যা চান তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর ফান্ড ব্যবহারে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। এছাড়া এক্ষেত্রে স্বাধীন অডিট বাধ্যতামূলক করা এবং নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
নয়তো দেশের আর্থিক খাতের ওপর জনগণের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
