ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে , আহত ১০ জন
দেয়ালের গ্রাফিতিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দটি লেখায় বিরোধের সুত্রপাত
গ্রাফিতিতে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন । আর এ নিয়েই কথা কাটাকাটির জেরে আজ মঙ্গলবার ছাত্রদল আর ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুদফা সংঘর্ষ হয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ।

সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, কলেজের দেয়ালে গ্রাফিতির একটি শব্দ মুছে অন্য একটি শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদের দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ যেসব ক্লাস এবং পরীক্ষা ছিল, সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, সিটি কলেজে ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সেজন্য কলেজ ক্যাম্পাস ও আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কলেজ ভবনের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি রয়েছে, যার নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। গতকাল সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে সেই গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে মঙ্গলবার সকালে এক দফা সংঘর্ষ ঘটে। পরে কলেজে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। এরইমধ্যে বিকেল চারটার দিকে তারা আবার মুখোমুখি হন। এবার তারা লাটিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পরস্পরের ওপর চড়াও হন। বেশ কিছু সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে কলেজের সামনে এই দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাটিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
