মাটিচাপা দেওয়া অসহায় মা ও অনাগত শিশুর আর্তনাদ!

5

নদীর হাওয়ায় ভেসে এলো মৃত মানুষের লাশপচা গন্ধ। উৎস খুঁজে মাটি খুঁড়ে বের করা হলো এক অজ্ঞাত পরিচয় নারী ও তার নবজাতকের মরদেহ। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীর তীরে।

- Advertisement -

- Advertisement -


গত ২০ এপ্রিল, সোমবার বিকেলে গুনটিয়া গ্রামের মানুষ যখন নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পাচ্ছিল, তারা ভাবতেও পারেনি মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে এক অপূর্ণ জীবনের গল্প। কুকুরের মাটি টানাটানি আর উঁকি দেওয়া নারীর চুলের গোছা যখন দৃশ্যমান হলো, তখন শিউরে উঠল জনপদ। পুলিশ মাটি খুঁড়ে বের করে আনল বস্তাবন্দি এক অন্তঃসত্ত্বা মায়ের শরীর, আর তার পাশেই এক অপরিণত নবজাতক।
ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দশ দিন আগে পৃথিবীর আলো থেকে আড়াল করে দেওয়া হয়েছিল এই মাকে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হয়ে উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর ক্ষণে এই নারী সন্তান প্রসব করেছেন। মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে ডিজিটাল দুনিয়ার দেয়ালে দেয়ালে।
তবে ঘটনার গভীরতা আরও বিভীষিকাময় হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘কফিন বার্থ’ বা মৃত্যুর পর সন্তান প্রসবের এক বিরল ও যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবতা রয়েছে। হতে পারে ঘাতকরা যখন ওই সাত-আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্বাসরোধ করে মাটিচাপা দিয়েছিল, তখনো সন্তানটি মায়ের জঠরেই ছিল। পরবর্তীকালে শরীরের পচন ও গ্যাসের চাপে মায়ের গর্ভ ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে সেই ভূমিষ্ঠ হতে না পারা শিশুটি। মাটির অন্ধকার গহ্বরে মমতাময়ী মায়ের লাশের পাশেই পড়ে রইল তার নাড়িছেঁড়া ধন।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, উদ্ধারের ছয় দিন পার হলেও এই মা ও শিশুর কোনো পরিচয় মেলেনি। মির্জাপুর একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অভাবের তাড়নায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোনো শ্রমজীবী নারী হতে পারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কেউ যখন দাবি নিয়ে আসেনি, তখন মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পরম মমতায় তাদের দাফন করা হয়েছে— ‘বেওয়ারিশ’ পরিচয়ে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন যে, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত প্রাথমিক অবস্থায় মেলেনি, তবে এটি যে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড— তা স্পষ্ট। ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তদন্তকারী দল।

ছবি এআই প্রযুক্তির

You might also like