‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়া প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে ফিরবেন না।
রবিবার সচিবালয়ের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভ করার সময় বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর এ ঘোষণা দেন।
বাদিউল কবীর বলেন, “এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে অপপ্রয়াস নেওয়া হচ্ছে, আমরা তাদের রুখে দেবো ইনশাআল্লাহ। এটি একটি নিবর্তনমূলক আইন।”
তিনি আরও জানান, এই অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা সচিবালয়ে বাদামতলায় (৬ নম্বর ভবনের সামনে চত্বর) অবস্থান করবো।
বিক্ষোভকারীরা সব ফটক আটকে সচিবালয় অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন। তারা বলেন, “আমরা এ বিষয়ে অনেক উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কেউ আমাদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলন করছি।”
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। অধ্যাদেশের খসড়ায় শৃঙ্খলা বিঘ্নিত, কর্তব্যে বাধা, ছুটি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিতি এবং কর্তব্য পালন না করার জন্য চাকরিচ্যুতির বিধান যুক্ত করা হয়েছে, অথচ এতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়নি।
গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এবং রবিবার সচিবালয়ে বিক্ষোভের পর কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় জড়ো হতে থাকেন। দশটা নাগাদ বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উপস্থিত হন।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন মো. নূরুল ইসলাম, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. বাদিউল কবীর এবং মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ। মিছিলটি সচিবালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পরে ৪ নম্বর ভবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে দেখা করতে যায়, তবে তিনি দপ্তরে ছিলেন না।
শেষে, মিছিলকারীরা প্রধান ফটকের কাছে এসে বসে পড়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফটক বন্ধ করে দেয়। প্রায় ২০ মিনিট ফটক বন্ধ থাকার কারণে কেউ বের হতে বা প্রবেশ করতে পারেনি।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, “আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এ সম্পর্কিত
