জীবিত পিতার সঙ্গে কারাগারে মৃতপুত্রের সাক্ষাৎ, সাথে নিথর মা

25

 

- Advertisement -

- Advertisement -

একটি ছবি, একটি দৃশ্য, একটি ঘটনা ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে , সংবাদপত্রে। । দৃশ্যটি মানুষকে কাঁদিয়েছে। দৃশ্যটি মানুষকে ভাবিয়েছে।
জেলগেটে মানুষ যখন যায়, তখন সে তার প্রিয়জনের জন্য নিয়ে যায় একটু স্বস্তির বারতা। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে গেলো অন্যরকম এক ঘটনা। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক সাক্ষী হলো এক বিরল ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। সেখানে ৯ মাসের শিশু সেজাদ হাসান তার বাবার দেখা পেতে এসেছে বাগেরহাট থেকে, মৃতমাকে সঙ্গে নিয়ে।

শিশু সেজাদ বাবাকে দেখেনি। বাবার কোলে চড়েনি। পৃথিবী এই বয়সেই তাকে চিনিয়ে দিয়েছে মানুষের নির্মমতা।

কারাবন্দী বাবা জুয়েল হাসান সাদ্দাম হয়তো জানতেনও না, তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা আর আদরের সন্তান সেজাদ আর এই পৃথিবীতে নেই। রাজনীতির প্রতিহিংসা নাকি আইনি বেড়াজালে একটি সাজানো সংসার কীভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ।
এখানেই মানবতা প্রশ্ন তুলেছে।

দেশের বিদ্যমান ‘প্যারোল মুক্তি-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৬’ অনুযায়ী নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে প্যারোলের সুযোগ ছিলো। কিন্তু, কোনো এক অদৃশ্য কারণে সাদ্দাম সে সুযোগ পায়নি।
রাজনীতির মঞ্চে সাদ্দাম হয়তো ভিন্ন মতাদর্শী। কিন্তু কারাফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটি ছিলেন কেবলই একজন নিঃস্ব পিতা এবং স্বামী।

শিশু সেজাদের এ ঘটনা রেখে গেছে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে আগে মানুষের শোককে সম্মান করতে শিখতে হয়। রাজনীতির রঙ যা-ই হোক, একজন মানুষের শেষ বিদায়ের অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। আমরা যেন ভুলে না যাই, লোহার শেকল হয়তো শরীরকে বন্দী করতে পারে, কিন্তু স্বজন হারানো পিতার আর্তনাদ আর মৃত শিশুর এই নীরবতা ইতিহাসের পাতায় এক গভীর কলঙ্ক হয়ে রয়ে যাবে।

শিশু আয়নালের সমুদ্র উপকূলে পড়ে থাকার যে দৃশ্য বিশ্ববাসীকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সারা পৃথিবী যেমন কওে কেঁদেছিল, শিশু সেজাদের জন্যও সেভাবে কেঁদেছে সারাদেশের মানুষ।
মানবতার জয় হোক|

শাঁওলি সুমন

You might also like