সংস্কার কমিশনের খরচ ৪৩৫ কোটি টাকা !

ফেসবুক পোস্টে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ঐকমত্য কমিশনের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ

77
- Advertisement -

- Advertisement -

সংস্কার কমিশনের জন্য কত খরচ হলো?
গত দু-তিন দিনে দুটো খবর দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেটা নিয়েই আজকের পোস্ট।
প্রথম খবরটা ছিল দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনের জন্য ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় খবরটা হল এ পর্যন্ত সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশনের জন্য ব্যয় হয়েছে ৪৩৫ কোটি টাকা।
দুটো অংকই আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের বিপুল অংকের টাকা যে ব্যয় হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। যেহেতু এটা রাষ্ট্রের টাকা সেজন্য সরকার থেকে এর হিসাব দেওয়া জরুরী। কিন্তু আগের সরকার গুলোর মতই ইউনূস সাহেবের অন্তর্বর্তী সরকার এ পর্যন্ত এর কোন হিসাব দেয়নি। এর প্রধান কারণ আমার কাছে মনে হয় অন্যান্য সরকার গুলোর মতই তারা এই দেশটাকে নিজের বা বাপের সম্পত্তি মনে করছে।
সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় কোন সাংবাদিক বা গণমাধ্যম এটা নিয়ে কোন অথেন্টিক রিপোর্ট করেছে বলে মনে করতে পারছি না।
সংবাদমাধ্যমের আসল কাজ কি এটা কি সাংবাদিকরা জানে না? আমার বিবেচনায় তাদের দুটো প্রধান কাজ হলো: সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
যেহেতু এই কমিশন গুলোর নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে সে কারণে সংবাদ মাধ্যমের উচিত ছিল এটা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করা। কারণ এগুলো জনগণের ট্যাক্সের টাকা এবং এটা কিভাবে ক্ষমতাসীনরা খরচ করেছে সেটা জানানো সংবাদ মাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।
যেহেতু সংবাদ মাধ্যম প্রকৃত অর্থে এখানে স্বাধীন না এবং অধিকাংশ সংবাদ পত্র বা টিভি চ্যানেলের মালিকরা তাদের অবৈধ রোজগার এবং গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষা করে, তাই এদের কাছ থেকে অবব্জেক্টিভ জার্নালিজম আশা করি না।
এ কারণে আমার মত অনেকেই আশা করেন যে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার দাবিদার প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো জনগণকে জানাবে। দুঃখের বিষয় তারা সে কাজটি করছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রশ্ন হল মতিউর রহমান বা মাহফুজ আনামদের দায়বদ্ধতা কার কাছে– সাধারণ জনগোষ্ঠী; না বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী?
এটা আমার কাছে বোধগম্য নয় কেন মতিউর রহমান বা মাহফুজ আনাম তাদের রিপোর্টারদের বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে রিপোর্ট করতে বলেনি?
ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন এই সংস্কার কমিশনের রিপোর্টগুলো বেশ আগেই ইউনূস সাহেবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে এই সরকার কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয় নি। এমনকি সংস্কার কমিশনের কয়েকজন প্রকাশ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্থানীয় সরকার কমিশন প্রধান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছিলেন এত কষ্ট এবং পরিশ্রম করে রিপোর্ট দেওয়ার পরও এটার বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার থেকে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। মাসখানেক আগে তোফায়েল সাহেব পরপারে চলে গেছেন, সম্ভবত মনে এই দুঃখ নিয়ে।
এখন দেখতে পাচ্ছি প্রায় আট মাস ধরে চলা ঐকমত্য কমিশনেরও একই দশা। ইতিমধ্যে এর বড় এসটেক হোল্ডার বিএনপি প্রকাশ্যে কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছে। প্রশ্ন হল এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কমিশন তাহলে কি কাজ করলো এবং এত বিপুল অংকের টাকা যে ব্যয় হল তার কি হবে?
এতদিন ধরে যে জিনিসটা লক্ষ্য করলাম সেটা হল সরকার প্রধান বা অন্যান্য উপদেষ্টাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো বিদেশ ভ্রমণ। গত চৌদ্দ মাসে ইউনূস সাহেব সহ অন্যান্য উপদেষ্টা বা তার সহকারীরা বিদেশ ভ্রমণ বাবদ কত টাকা ব্যয় করেছেন সেটা জানা জনগণের অধিকার এবং তারা এই তথ্য দিতে বাধ্য।
এই পোস্ট শেষ করছি ইউনূস সাহেবের আর একটা বিদেশ ভ্রমণের খবর নিয়ে। আপনারা হয়তো জানেন যে বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ নামে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলছে। চারদিনব্যাপী সম্মেলন আজ শেষ হওয়ার কথা। কোন এক জায়গায় খবর বেরিয়েছিল যে সেখানে ইউনূস সাহেবের যোগদান করার কথা ছিল। আর এই সফরের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দুটো টিম সেখানে গিয়েছিল। তাদের কাজ ছিল সৌদি যুবরাজ বা রাজার সঙ্গে একটা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করা। তবে সৌদি সরকার কোন আগ্রহ দেখায়নি কারন এটা দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না। শেষ পর্যন্ত শুনেছি একটা ফটোসেশনের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ অনুরোধ করেছিল। সেটাতেও তারা রাজি হয়নি। আর এ কারণেই শেষ পর্যন্ত ইউনূস সাহেবের সেখানে যাওয়া হয়নি। তবে বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়ে ছিলো তার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী। এই খবরটা কোন বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমে আসেনি। এটা জানলাম লুৎফা সিদ্দিকীর ফেসবুক পোস্ট থেকে। প্রশ্ন জাগে তার বা তার সফর সঙ্গীদের এই যোগদানের খরচ কে দিয়েছে? সত্যি কথা বলতে কি এই ব্যক্তির আসল কাজটা কি এ পর্যন্ত সেটা বুঝতে পারিনি। ব্রিটিশ এ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলা ছাড়া, তাকে প্রোডাক্টিভ কোন কাজ করতে দেখিনি।
আবারো প্রকৃত সংবাদ মাধ্যমের কাছে অনুরোধ জানাবো যেন এটা নিয়ে কোন তথ্যবহুল রিপোর্ট তারা দেয়। বারবার যেটা বলছি এগুলো জনগণের টাকা; কারো বাপের টাকা না। এর হিসাব আমরা চাই।
You might also like