একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার , গ্রামবাসি হতবাক

নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগমের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

8

সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাহাদুরপুর গ্রামের মানুষ নৃশংসতার খবরে আতকে উঠেছে ।  নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করার পর এমনটা হয়েছে নিভৃত গ্রামে। আজ মঙ্গলবার ( ২১ এপ্রিল ) সকাল ৮টার দিকে ওই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

- Advertisement -

- Advertisement -

নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল।

 

ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের ওই টাকা লুট করার জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে ঢুকেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে।

নিহত পপি সুলতানার মায়ের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ডাকাতির পর পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে।এ  সময় বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়ে-জামাইকে মেরে ফেলেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। কয়েকদিন আগেও পপিকে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং তা নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়।

সাবিনা বেগম বলেন, ননদ শিরিনা, তার স্বামী ভুটি এবং তাদের পরিবারের লোকজন মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। পরে গ্রামে সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

 

You might also like