একবার জ্বালানি লোডের পর টানা দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন চলবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে
রূপপুর প্রকল্প প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, বলেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী, মানদণ্ড বজায় রেখে নিরাপদতার অঙ্গীকার রোসাটম মহাপরিচালকের
একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা দেড় বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে । আর আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে সেই জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

জ্বালানি লোডিং কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন “ রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক । অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেছেন, “ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।”

আজকের অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে জ্বালানি লোডের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার আগে এটিই চূড়ান্ত ধাপ, যার মাধ্যমে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলো। অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভর করতে হবে না রূপপুরকে। এরপর একসঙ্গে সব জ্বালানি পরিবর্তন না করে প্রতি দেড় বছরে এক-তৃতীয়াংশ করে পরিবর্তন করলেই চলবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এই আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে একসাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত এবং আরও সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছি। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতা থাকবে রোসাটমের।

অনুষ্ঠানে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজ এই দিনটি ঐতিহাসিক। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, আজ বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাতারে যোগ দিয়েছে। নিঃসন্দেহে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার একটি মূল উপাদান হয়ে উঠবে। রোসাটমের জন্য, এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়নে এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম পেলেটসমৃদ্ধ রড।
এরই মধ্যে দুই বছর আগে বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করে রেখেছে। এর মধ্যে ১৬৩টি চুল্লিতে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি ৫টি সংরক্ষণে থাকবে।
এই বান্ডেলগুলো চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর শুরু হবে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া প্রক্রিয়া। বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে এবং সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
